:

চট্টগ্রামে বন্দরে একের পর এক আসছে জ্বালানি পণ্যবাহী জাহাজ

top-news

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এলএনজিসহ বিভিন্ন জ্বালানি পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে একের পর এক ১৫টি জাহাজ ভিড়তে শুরু করেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বন্দর থেকে জ্বালানি পণ্য নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া এই জাহাজগুলো ২৮ ফেব্রুয়ারী শুরু হওয়া সংঘাতের আগেই ‘হরমুজ প্রণালী’ অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। বর্তমানে জাহাজগুলো ধাপে ধাপে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে এবং পণ্য খালাস কার্যক্রম শুরু হয়েছে। 

এসব জাহাজের মধ্যে চারটি জাহাজে আছে ২লাখ ৪৭ হাজার টন তরলীকৃত প্রকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি। এসব জ্বালানি পণ্য আনা হচ্ছে কাতার থেকে। যা দেশের বিদ্যুত কেন্দ্র ও শিল্প কারখানায় সরবরাহ করা হবে। একটি জাহাজে আছে  গৃহস্থালী ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য এলপিজি ।

এছাড়া বেশ কিছু জাহাজে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ফার্নেস অয়েল এবং শিল্প খাতের জন্য ডিজেলসহ বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম পণ্য রয়েছে আছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বন্দরে আসা কার্গো জাহাজগুলোতে রাসায়নিক পদার্থ, পেট্রোকেমিক্যাল এবং প্লাস্টিক শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আনা হয়েছে বলেও জানায় বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিদ জানান, সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্যেও জাহাজগুলো নিরাপদে পৌঁছানোয় বন্দর এলাকায় পণ্য খালাস ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শনিবার পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজার টন পেট্রোল ছিল যা ১৫ দিনের সরবরাহের জন্য যথেষ্ট। আর অকটেনের মজুত ২৩ হাজার টন, যা ২৫ দিনের জন্য যথেষ্ট। আর ডিজেলের মজুত এক লাখ ২৯ হাজার টন, যা ১৪ দিনের সরবরাহের জন্য পর্যাপ্ত।

কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে দেরি হওয়া সত্ত্বেও সরবরাহ পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব। ৪ মার্চ পরিশোধিত ডিজেল নিয়ে একটি জাহাজ এসেছে, যেখানে ৬ মার্চ ও আজ আসার কথা থাকা চালানগুলো রোববার পৌঁছাবে। আরও একটি জাহাজ ১২ মার্চ পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

বিপিসির মার্চের আমদানি সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশ সৌদি আরব ও আবুধাবি থেকে ২ লাখ টন অপরিশোধিত তেল; ৩ লাখ ৭৪ হাজার টন ডিজেল, ২৫ হাজার টন অকটেন এবং ৪৫ হাজার টন জেট ফুয়েল পাওয়ার কথা রয়েছে।

এপ্রিলে আসার কথা থাকা চালানের মধ্যে রয়েছে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল, ২ লাখ ৯৩ হাজার টন ডিজেল, ৫০হাজার টন জেট ফুয়েল এবং ২৫ হাজার টন অকটেন।

তবে কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন যে, চলমান সংঘাতের কারণে জাহাজ আসতে দেরি হতে পারে।

২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে জ্বালানি বিক্রি নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। বিপিসির তথ্য বলছে, ডিজেলের দৈনিক গড় বিক্রি ফেব্রুয়ারির ১২ হাজার ৮৭৯ টন থেকে বেড়ে ১ থেকে ৪ মার্চের মধ্যে ২৪ হাজার ৪৭৮ টনে দাঁড়িয়েছে। এই চার দিনে মোট বিক্রি হয়েছে ৯৭ হাজার ৯১২ টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৬ শতাংশ বেশি।

অকটেনের দৈনিক গড় বিক্রি ফেব্রুয়ারির ১ হাজার ১৭৩ টন থেকে বেড়ে মার্চ মাসের শুরুতে প্রায় ২ হাজার টনে পৌঁছেছে, অর্থাৎ বেড়েছে ৭১ শতাংশ। অন্যদিকে পেট্রোল বিক্রি ফেব্রুয়ারির দৈনিক গড় ১ হাজার ২১২ টন থেকে বেড়ে ১ থেকে ৪ মার্চ সময়ে ২ হাজার ৩৪৫ টনে পৌঁছেছে, অর্থাৎ বেড়েছে ৯৪ শতাংশ।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আতঙ্কিত হয়ে কেনাকাটায় হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ার ফলে সরবরাহে চাপ পড়েছে। যদি আমদানি দেরি হয়, তবে কম মজুত বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে।

সরকার প্রতিদিনের জ্বালানি কেনার ওপর সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। মোটরসাইকেলের জন্য সর্বোচ্চ ২ লিটার; ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য ১০ লিটার; এসইউভি/মাইক্রোবাসের জন্য ২০ থেকে ২৫ লিটার; পিকআপ ভ্যান/লোকাল বাসের জন্য ৭০ থেকে  ৮০ লিটার ডিজেল এবং দূরপাল্লার বাস/ট্রাকের জন্য ২০০ থেকে ২২০ লিটার ডিজেল কেনা যাবে।

কর্মকর্তারা বলছেন, এই সীমা নির্ধারণ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নেওয়া হয়েছে, ঘাটতির কারণে নয়।

তবে এই রেশনিং বা সীমিতকরণের সিদ্ধান্তই কাউকে কাউকে ভয়ের কারণে জ্বালানি মজুত করতে প্ররোচিত করেছে।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, পাবনা, গোপালগঞ্জ ও রাঙামাটির পাম্পগুলো পরিদর্শন করে সংবাদদাতারা দেখেছেন,  অধিকাংশ পাম্প বন্ধ অথবা সীমিত পরিমাণে বিক্রি করছে।

চট্টগ্রামেও বেশ কয়েকটি স্টেশনে দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। বন্দরনগরীর ওয়াসা মোড় এলাকার সিএমপি ফিলিং স্টেশনে ব্যক্তিগত গাড়ির চালক রেজাউল করিম  বলেন, এখানে এসে লাইনে দাঁড়ানোর আগে আমি আজ আটটি ফিলিং স্টেশনে ঘুরেছি। কিন্তু আধা ঘণ্টা পর যখন আমার পালা এলো, তখন আমাকে জানানো হলো যে আর কোনো জ্বালানি নেই।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শনিবার পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজার টন পেট্রোল ছিল যা ১৫ দিনের সরবরাহের জন্য যথেষ্ট। আর অকটেনের মজুত ২৩ হাজার টন, যা ২৫ দিনের জন্য যথেষ্ট। আর ডিজেলের মজুত এক লাখ ২৯ হাজার টন, যা ১৪ দিনের সরবরাহের জন্য পর্যাপ্ত।

কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে দেরি হওয়া সত্ত্বেও সরবরাহ পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব। ৪ মার্চ পরিশোধিত ডিজেল নিয়ে একটি জাহাজ এসেছে, যেখানে ৬ মার্চ ও আজ আসার কথা থাকা চালানগুলো রোববার পৌঁছাবে। আরও একটি জাহাজ ১২ মার্চ পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

বিপিসির মার্চের আমদানি সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশ সৌদি আরব ও আবুধাবি থেকে ২ লাখ টন অপরিশোধিত তেল; ৩ লাখ ৭৪ হাজার টন ডিজেল, ২৫ হাজার টন অকটেন এবং ৪৫ হাজার টন জেট ফুয়েল পাওয়ার কথা রয়েছে।

এপ্রিলে আসার কথা থাকা চালানের মধ্যে রয়েছে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল, ২ লাখ ৯৩ হাজার টন ডিজেল, ৫০হাজার টন জেট ফুয়েল এবং ২৫ হাজার টন অকটেন।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *